নিসাব একটা ওজন, টাকার অঙ্ক নয়
এটাই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝা হয়। বহু ক্যালকুলেটরে নিসাব হিসেবে একটা টাকার অঙ্ক বসানো থাকে — যেটা যে মাসে লেখা হয়েছিল কেবল সে মাসেই ঠিক ছিল। সোনার দাম বছরে ত্রিশ শতাংশ নড়লে সেই বসানো সংখ্যা মানুষকে ভুল উত্তর দেয়, আর কেউ টেরই পায় না।
নিসাব হলো ৮৭.৪৮ গ্রাম সোনা বা ৬১২.৩৬ গ্রাম রুপা। ভরিতে ঠিক ৭.৫ ভরি আর ৫২.৫ ভরি — এই সংখ্যা দুটো উপমহাদেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী লিখে এসেছে, আর গ্রামের হিসাবটা সেটারই রূপান্তর।
সোনা-রুপা ভরিতেই দিন
জুয়েলার ভরিতে ওজন লিখে দেন, ভরিতেই দাম বলেন। তাই এখানে গ্রামে রূপান্তর করে দেওয়ার দরকার নেই — ওজনের ঘরের উপরে একক বেছে নিন, আর যেভাবে লেখা আছে সেভাবেই বসান। একক বদলালে টাইপ করা সংখ্যাটাও সাথে বদলে যাবে, তাই ৪০ গ্রাম ভুল করে ৪০ ভরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।
এই পাতায় পুরো ওজন দিলেই চলবে। প্রতিটি গহনা আলাদা করে ক্যারেট ধরে খাদ বাদ দিতে চাইলে সোনা ও রুপার ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।
যে ভুলটা এক প্রজন্মে এক বছর যাকাত খেয়ে ফেলে
যেদিন আপনার সম্পদ প্রথম নিসাব ছাড়াল, সেই তারিখটাই প্রতি বছরের যাকাতের তারিখ। বহু মানুষ সেটা ইংরেজি ক্যালেন্ডারে লিখে রাখেন — ধরুন ১ এপ্রিল — আর প্রতি বছর সেই তারিখেই হিসাব করেন।
এতে এক বছর হারিয়ে যায়। চান্দ্রবছর এগারো দিন ছোট, তাই ইংরেজি তারিখ ধরে চললে প্রায় প্রতি তিন দশকে একটা পুরো যাকাত-বছর বাদ পড়ে যায় — আর সেই বছরের যাকাত মাফ হয় না, বকেয়া থেকে যায়। হিজরি তারিখে রূপান্তর করে সেটাই লিখে রাখুন।
আপনার কোনো তথ্য কোথাও যায় না
পুরো হিসাবটা আপনার নিজের ব্রাউজারে হয়। আপনার সম্পদের অঙ্ক, সোনার ওজন, দেনার পরিমাণ — কিছুই কোনো সার্ভারে পাঠানো হয় না, কারণ এই সাইটের কোনো সার্ভারই নেই। পাতাটা তৈরি হয়ে আপনার কাছে আসে, আর বাকি সব আপনার ডিভাইসেই ঘটে।