ভরিতেই দিন, রূপান্তর করার দরকার নেই
জুয়েলার ভরিতে ওজন লিখে দেন, ভরিতেই দাম বলেন। তাই গ্রামে হিসাব করে নেওয়ার কোনো দরকার নেই — উপরে একক বেছে নিন, আর রসিদে যেভাবে লেখা আছে সেভাবেই বসান।
এক ভরি ১১.৬৬৪ গ্রাম, আর ষোলো আনায় এক ভরি। জুয়েলারের “৩ ভরি ৮ আনা” মানে ঘরে ৩.৫।
খাদ বাদ যায় ক্যারেট দিয়ে
যাকাত সোনার ওপর, তার সাথে মেশানো তামার ওপর নয়। তাই গহনা যেমন আছে তেমনই ওজন করুন, আর ক্যারেটটা বেছে দিন — বাকিটা হিসাব করে নেবে।
৪০ গ্রাম ২২ ক্যারেটের চুড়িতে আসল সোনা ৩৬.৬৭ গ্রাম (৪০ × ০.৯১৬৭), আর যাকাতের হিসাব ওই পরিমাণের ওপরেই হয়। বিভিন্ন ক্যারেটের গহনা আলাদা সারিতে দিন, প্রত্যেকটার খাদ আলাদাভাবে বাদ যাবে।
যে মতভেদটা সবচেয়ে বেশি পার্থক্য গড়ে
পরিহিত গহনায় যাকাত ওয়াজিব কি না — এখানে মাযহাবগুলোর মধ্যে প্রকৃত মতভেদ আছে, আর এটা কোনো ছোট বিষয় নয়। হানাফি মতে ব্যবহার যা-ই হোক যাকাত আসে; মালিকি, শাফিয়ি ও হাম্বলি মতে নারীর স্বাভাবিক ব্যবহারের বৈধ গহনা সাধারণত বাদ।
ক্যালকুলেটর কোনো পক্ষ নেয় না। আপনি যে মত অনুসরণ করেন সেটা বেছে নিন — আর অন্য মতে কত হতো তাও পাশে দেখানো হবে, যাতে পার্থক্যটা কত তা নিজের চোখেই দেখতে পান।
সোনা একা মাপবেন না
নিসাব মাপা হয় সব যাকাতযোগ্য সম্পদ একসাথে ধরে। ৫০ গ্রাম সোনা একা নিসাবের নিচে, কিন্তু সাথে ব্যাংকে কিছু টাকা থাকলে প্রায়ই মোটটা নিসাব ছাড়িয়ে যায় — আর তখন যাকাত পুরোটার ওপরেই আসে।
নগদ, ব্যাংক আর বিনিয়োগ নিচের ঘরে দিন। সবকিছু একসাথে ধরে পূর্ণ হিসাব করতে চাইলে যাকাত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।