তিনটা কাঠামো, তিন রকম খরচ
মুরাবাহা — প্রতিষ্ঠান বাড়ি কিনে আপনার কাছে বেশি দামে বিক্রি করে, আর সেই দামটা কিস্তিতে শোধ হয়। মোট অঙ্ক শুরুতেই নির্দিষ্ট, পরে বাড়ে না।
ইজারা — প্রতিষ্ঠান মালিক থাকে, আপনি ভাড়া দেন, মেয়াদ শেষে মালিকানা হস্তান্তর হয়।
কমতে থাকা মুশারাকা — আপনি আর প্রতিষ্ঠান যৌথ মালিক। আপনি ধীরে ধীরে তাদের অংশ কিনে নেন, আর যতটুকু এখনো তাদের কেবল তার ভাড়া দেন। তাই প্রতি মাসে ভাড়ার অংশ কমতে থাকে।
সুদের চেয়ে আলাদা কি না — সৎ উত্তর
নির্ভর করে চুক্তিটার ওপর, নামের ওপর নয়।
যেখানে পার্থক্যটা আসল, সেখানে প্রতিষ্ঠান সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা ও ঝুঁকি নেয়, আর মুনাফা আসে বিক্রি বা ভাড়া থেকে — ঋণের ওপর সময়ের হিসাবে নয়। সমালোচকরা বলেন বহু পণ্যে বাস্তব ঝুঁকি নামমাত্র, আর সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনা, উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।
প্রতিষ্ঠানকে যে তিনটা প্রশ্ন করবেন
- মালিকানা — আপনার কাছে বিক্রি বা ভাড়া দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠান কি সত্যিই সম্পত্তিটার মালিক হয়?
- দেরির জরিমানা — কিস্তিতে দেরি হলে যে বাড়তি টাকা নেওয়া হয়, সেটা কি প্রতিষ্ঠানের আয়ে যায়, নাকি পুরোটা দাতব্যে?
- আগে শোধ — আগেভাগে শেষ করলে কী ছাড় পাব, আর সেটা কি লিখিত?
দেরির জরিমানা প্রতিষ্ঠানের আয়ে গেলে সেটা কার্যত সুদ — এই একটা প্রশ্নেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যায়।
যে পথটা কেউ প্রচার করে না
ভাড়া থেকে জমানো কোনো প্রশ্নই তোলে না। ধীর মনে হয়, আর বাড়ির দাম বাড়তে থাকলে পিছিয়ে পড়ার মতো লাগে — আর কোনো প্রতিষ্ঠান এটা প্রচার করে না, কারণ এতে কারো লাভ নেই।
কথাটা স্পষ্ট করে বলা দরকার: সুদ এড়ানোর দায়িত্ব বাড়ির মালিক হওয়ার দায়িত্ব তৈরি করে না। এই প্রশ্ন নিয়ে যাঁরা আলেমের কাছে যান, তাঁদের অনেককেই অপেক্ষা করতে বলা হয় — আর সেটাও একটা উত্তর। প্রচলিত mortgage কি কখনো জায়েজ — সেই আলোচনাটাও দেখতে পারেন।