এক-তৃতীয়াংশ সীমা, লক্ষ্য নয়
সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) অসুস্থ অবস্থায় জিজ্ঞেস করেছিলেন অর্ধেক সম্পত্তি দান করবেন কি না। নবীজি ﷺ বললেন না। এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন — এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক।
কারণটাও তিনি বলে দিয়েছিলেন: ওয়ারিশদের সচ্ছল রেখে যাওয়া তাঁদের মানুষের কাছে হাত পাতার অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। তাই কম ওসিয়ত করা দোষের নয় — বরং অনেক আলেম সেটারই পরামর্শ দেন।
ওয়ারিশকে ওসিয়ত নয়
যিনি এমনিতেই নির্ধারিত অংশ পাচ্ছেন, তাঁকে ওসিয়ত করে বাড়তি দেওয়া যায় না — বাকি ওয়ারিশরা সম্মত হলে ভিন্ন কথা।
এই একটা নিয়মই পুরো ব্যবস্থাটাকে টিকিয়ে রাখে। নইলে যে কেউ এক ছেলেকে এক-তৃতীয়াংশ ওসিয়ত করে দিয়ে কুরআনে নির্ধারিত ভাগগুলো কার্যত অকার্যকর করে দিতে পারতেন।
তাহলে এটা কাদের জন্য
যাঁদের ফারায়েজ পৌঁছায় না — আর এখানেই এক-তৃতীয়াংশের আসল কাজ:
- দত্তক বা সৎ সন্তান, যাঁরা নির্ধারিত অংশে ওয়ারিশ নন
- অমুসলিম মা-বাবা, যাঁরা ভিন্ন ধর্মের কারণে ওয়ারিশ হন না
- যে আত্মীয় নিকটতর কারো কারণে বাদ পড়েছেন
- মসজিদ, মাদ্রাসা বা কোনো সংস্থা
এঁদের ক্ষেত্রে ওয়ারিশকে ওসিয়তের নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্যই নয়, তাই পুরো এক-তৃতীয়াংশ খোলা — কারো সম্মতি লাগে না। দত্তক সন্তানের বিষয়টা বিস্তারিত এই উত্তরে আছে।
পরিকল্পনা আর দলিল এক নয়
এই পাতা আকৃতিটা বের করে দেয়। এটা এমন কোনো দলিল তৈরি করে না যা আদালত মানবে।
বাংলাদেশে মুসলিম উত্তরাধিকার আইন এমনিতেই ফারায়েজ অনুসরণ করে, তাই নির্ধারিত অংশগুলোর জন্য আলাদা দলিল লাগে না। কিন্তু বিদেশে সম্পত্তি থাকলে সেই দেশের নিয়মে আলাদা উইল করতে হবে — নইলে সেখানকার সরকারি নিয়মে ভাগ হবে, যার সাথে ফারায়েজের কোনো সম্পর্ক নেই। বাকিটা কীভাবে ভাগ হবে দেখতে ফারায়েজ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।