ওয়াজিব কি না — সেটাই প্রথম প্রশ্ন
হানাফি মতে ঈদের তিন দিনে যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব। যাকাতের সাথে একটা বড় পার্থক্য আছে এখানে: এক চান্দ্রবছর পার হওয়া লাগে না। ঈদের দিনগুলোতে সম্পদটা থাকলেই হলো।
মালিকি, শাফিয়ি ও হাম্বলি মতে এটা সুন্নতে মুআক্কাদা — অত্যন্ত জোর দেওয়া, কিন্তু ওয়াজিব নয়। বাংলাদেশে সাধারণত হানাফি মত চলে, তাই নিসাব থাকলে ধরে নিন ওয়াজিব।
ভাগের হিসাব
গরু, মহিষ ও উটে সাত ভাগ — সাতজন মিলে একটা পশু দিতে পারেন। ছাগল ও ভেড়ায় ভাগ হয় না, একটা পশু একজনের জন্য।
তবে একটা ছাগল একজনের নামে হলেও তার সওয়াবে পুরো পরিবার শরিক হতে পারে। ভাগে শরিক হওয়া আর সওয়াবে শরিক হওয়া এক জিনিস নয় — এখানেই মানুষ সবচেয়ে বেশি গুলিয়ে ফেলে।
মাংস তিন ভাগে
এক ভাগ নিজের পরিবারের, এক ভাগ আত্মীয়-প্রতিবেশী-বন্ধুর, আর এক ভাগ গরিব-মিসকিনের। এটা ওয়াজিব নয় — জোর দেওয়া সুন্নত। চাইলে গরিবকে বেশি দেওয়া যায়, কম নয়।
⚠️ যেটা করা যায় না: কসাইকে মজুরি হিসেবে মাংস দেওয়া। তার পারিশ্রমিক আলাদাভাবে টাকায় দিতে হবে। চামড়ার টাকাও নিজের কাজে লাগানো যায় না — সেটা সদকা করতে হয়।
পশু কেনার আগে
বয়স — ছাগল ও ভেড়া এক বছর, গরু ও মহিষ দুই বছর, উট পাঁচ বছর। ভেড়ার ক্ষেত্রে ছয় মাসেও চলে যদি দেখতে এক বছরের মতো হৃষ্টপুষ্ট হয়।
পশু সুস্থ হতে হবে — স্পষ্ট খোঁড়া, এক চোখ নষ্ট, ভীষণ রোগা বা কান-লেজের বড় অংশ কাটা পশু চলবে না। নিসাব কত তা দেখতে যাকাত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।