ঈদের নামাজের আগে — এটাই মূল কথা
ফিতরা দেরিতে দেওয়া যায় এমন কোনো জিনিস নয়। ঈদের নামাজের পরে দিলে সেটা সাধারণ সদকা হয়ে যায়, ফিতরা আর থাকে না — কারণ এর পুরো উদ্দেশ্যই হলো ঈদের দিন সকালে কোনো গরিব মানুষের যেন হাত পাততে না হয়।
রমজানের শেষ কয়েক দিনে আগে দিয়ে দেওয়াই নিরাপদ, বিশেষ করে টাকা পৌঁছাতে সময় লাগলে।
পরিমাণটা ওজনে, টাকায় নয়
হাদিসে পরিমাণ এক সা’ — প্রায় ২.৫ কেজি খাদ্য। গমের ক্ষেত্রে হানাফি মত অর্ধ সা’, প্রায় ১.৭৫ কেজি।
এইজন্যই ফিতরার টাকার অঙ্ক প্রতি বছর বদলায়, আর এক এলাকায় এক রকম হয় না — কারণ ঠিক হয় খাদ্যের ওজনে, আর খাদ্যের দাম বদলায়। এই পাতা আপনার কাছে আজকের দাম জানতে চায়, কোনো সংখ্যা বসিয়ে রাখে না।
বাংলাদেশে চাল দিয়েই হিসাব
হাদিসে নাম এসেছে গম, যব, খেজুর ও কিশমিশের — কারণ মদিনায় মানুষ ওগুলোই খেত। নীতিটা হলো এলাকার প্রধান খাদ্য, তাই বাংলাদেশে বেশিরভাগ আলেম চাল দিয়েই হিসাব করার পরামর্শ দেন।
খাদ্যের বদলে টাকা দেওয়া নিয়ে মতভেদ আছে। হানাফি মতে সমমূল্যের টাকা জায়েজ — অনেক ক্ষেত্রে উত্তমও, কারণ গরিব মানুষ নিজের যা দরকার তা কিনতে পারেন। শাফিয়ি ও হাম্বলি মতে খাদ্যই দিতে হবে। এই পাতা দুটোই দেখায় — কেজি আর টাকা।
কার পক্ষ থেকে, আর কাকে
পরিবারের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে যাদের খরচ আপনি বহন করেন — শিশুদেরসহ, এমনকি রমজানের শেষ দিকে জন্ম নেওয়া শিশুরও।
নিজের মা-বাবা, সন্তান বা স্ত্রীকে দেওয়া যায় না, কারণ তাঁদের ভরণপোষণ এমনিতেই আপনার দায়িত্ব। গরিব ভাই, বোন বা চাচাকে দেওয়া যায় — আর অনেক আলেম সেটাকেই উত্তম বলেন। রোজার কাজা বা ফিদিয়ার হিসাব করতে ফিদিয়া ও কাফফারা দেখুন।