DebtRunway

প্রচলিত বীমা কি হারাম?

সংখ্যাগরিষ্ঠ মত হলো, প্রচলিত বাণিজ্যিক বীমা জায়েজ নয় — তিনটা কারণে: অনিশ্চয়তা, জুয়া, আর প্রিমিয়াম যেভাবে বিনিয়োগ হয় তাতে সুদ। আইন যে বীমা রাখতে বাধ্য করে সেটাকে ব্যাপকভাবে ব্যতিক্রম ধরা হয়, আর যেখানে তাকাফুল আছে সেখানে সেটাই বিকল্প।

আধুনিক আর্থিক প্রশ্নগুলোর মধ্যে বীমা একটু আলাদা, কারণ এখানে আপত্তিটা একটা নয়। তিনটা আলাদা সমস্যা তোলা হয়, আর কোন পলিসিতে কোনটা খাটছে তা বুঝলে লেবেল দেখার চেয়ে অনেক বেশি জানা হয়।

তিনটা আপত্তি

  • গারার — অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা। কোনো পক্ষই জানে না আদৌ কিছু দেওয়া হবে কি না, কখন হবে, কত হবে। যে বিনিময়চুক্তিতে কী বিনিময় হচ্ছে তা-ই অজানা, ক্লাসিক্যাল পরিভাষায় সেটা ত্রুটিপূর্ণ।
  • মাইসির — জুয়া। আপনি ছোট একটা অঙ্ক দেন বড় একটা অনিশ্চিত প্রাপ্তির বিপরীতে; হয় আপনি প্রিমিয়াম হারান, নয় বীমা কোম্পানি দাবির টাকা হারায়। কাঠামোটা বাজির মতোই।
  • রিবা — সুদ। প্রিমিয়ামগুলো একসাথে জমিয়ে বিনিয়োগ করা হয়, বিপুলভাবে সুদভিত্তিক জায়গায়, আর দাবির টাকার একটা অংশ আসে সেই মুনাফা থেকে।

তৃতীয় আপত্তিটা নিয়ে সবচেয়ে কম আলোচনা হয়, অথচ প্রায়ই সেটাই সবচেয়ে নির্ধারক — কারণ প্রথম দুটো হালকা এমন পলিসিতেও এটা খাটে।

বাধ্যবাধকতা যেখানে উত্তর বদলে দেয়

বেশিরভাগ দেশে গাড়ির বীমা, নিয়োগকর্তার দায়বীমা, আর কোথাও কোথাও স্বাস্থ্যবীমা আইনত বাধ্যতামূলক। প্রচলিত মত হলো, জরুরত — দারুরা — আইন যতটুকু দাবি করে ততটুকু নেওয়ার অনুমতি দেয়, এই সাধারণ নীতির ভিত্তিতে যে সত্যিকার বাধ্যবাধকতায় নিষেধ শিথিল হয়।

সাধারণত দুটো সীমা যোগ করা হয়। অনুমতিটা বাধ্যতামূলক সর্বনিম্ন পর্যন্ত, সুবিধার জন্য বেছে নেওয়া পূর্ণাঙ্গ কভারেজ পর্যন্ত নয়। আর আপনার বাজারে যদি তাকাফুলের সত্যিকার বিকল্প থাকে, তাহলে জরুরতের যুক্তিটা অনেকটাই দুর্বল হয়ে যায় — কারণ তখন আর আপত্তিকর রূপটা ব্যবহার করতে আপনি বাধ্য নন।

তাকাফুল আসলে কী বদলায়

তাকাফুল ব্যবস্থাটাকে বিনিময়ের বদলে পারস্পরিক সহযোগিতা হিসেবে সাজায়। অংশগ্রহণকারীরা একটা তহবিলে দান হিসেবে টাকা দেন, যা দিয়ে যাঁর ক্ষতি হয় তাঁকে সাহায্য করা হয়; পরিচালক তহবিলটার মালিক নন, ফি-র বিনিময়ে পরিচালনা করেন; উদ্বৃত্ত অংশগ্রহণকারীদের ফেরত দেওয়া হতে পারে; আর তহবিলটা শরিয়াহসম্মত জায়গায় বিনিয়োগ হয়।

কাঠামোগতভাবে এতে তিনটা আপত্তিরই সমাধান হয়। কোনো নির্দিষ্ট তাকাফুল প্রতিষ্ঠান বাস্তবে সেটা দিচ্ছে কি না, সেটা আলাদা প্রশ্ন — আর জিজ্ঞেস করার মতো প্রশ্ন: উদ্বৃত্ত নিয়ে কী হয়, আর তহবিলটা কোথায় বিনিয়োগ হয়। এই দুটো উত্তরই আসল তাকাফুল আর নাম বদলানো পলিসির পার্থক্য দেখিয়ে দেয়।

জীবনবীমার ক্ষেত্রে

প্রচলিত জীবনবীমায় আপত্তিগুলো সবচেয়ে জোরালোভাবে খাটে, আর এর নিজস্ব আরেকটা আপত্তিও আছে — দাবির টাকা প্রায়ই বিনিয়োগ করে সুদসহ ফেরত দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটা বাজারে ফ্যামিলি তাকাফুল বিকল্প হিসেবে আছে। যেখানে কোনোটাই নেই আর পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ার আশঙ্কা, সেখানে কিছু আলেম জরুরতের যুক্তিতে মেয়াদি বীমার অনুমতি দেন; অন্যরা বলেন পরিবারের ব্যবস্থা সঞ্চয় আর ঠিকভাবে লেখা উইলের মাধ্যমেই করা উচিত।

শেষ পথটার একটা সুবিধা হলো, এতে কোনো হুকুমের প্রশ্নই ওঠে না — পরিবারকে রক্ষা করার একমাত্র উপায় হিসেবে বীমাকে ধরে নেওয়ার আগে এটা ভেবে দেখা দরকার।

এটি ফতোয়া নয়। এখানে আলেমরা কী কী মত রাখেন আর কোথায় আলাদা হন তা তুলে ধরা হয়েছে, যাতে আপনি জানেন আসলে কী জিজ্ঞেস করছেন। আপনার নিজের অবস্থা এমন সব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে যা কোনো পাতা দেখতে পায় না — যোগ্য কারো কাছে সেটা নিয়ে যান।